টেলিকম আইনের খসড়া নাগরিককেন্দ্রীক ও ব্যবসায় বান্ধব করতে ৯ সদস্যের কমিটি
নতুন টেলিযোগাযোগ আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে এবার গঠিত হচ্ছে ৯ সদস্যের অংশীজন কমিটি। টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব), ইন্টারনেট সার্ভির্স প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) এবং শিক্ষাবিদ ও নাগরিক প্রতিনিধিসহ খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হচ্ছে।টেলিযোগাযোগ আইন, ২০২৪ খসড়াটি কিভাবে আইনটি ব্যবসায় ও নাগরিক কেন্দ্রিক করতে বুধবার এই কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
বুধবার আইসিটি টাওয়ারের বিসিসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘Enabling Smart Bangladesh Vision 2041: Reform of the Telecom Act and Way Forward’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এই নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আজকের উন্নয়নে টেলিকমের অসামান্য অবদান রয়েছে। আমরা মনে করি, সংশোধিত টেলিকম আইনটি হবে সময়োপযোগী, উদার, বিশ্বর সেরা আইনের বেস্ট প্রাক্টিসের মাধ্যমে ভবিষ্যতমুখী ব্যাবসা বান্ধব ও নাগরিক বান্ধব। এজন্য এই আইন নিয়ে আজ যে প্রস্তাবনা এসেছে তাতে কোনো মতবিরোধ নেই।
বক্তব্যে লঘুপাপে গুরুদন্ড জরিমানা, প্রতিষ্ঠান প্রধানের অজামিনযোগ্য শাস্তির বিধান রদসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করতে টিআরসিএনবি সভাপতি রাশেদ মেহেদীকে দায়িত্ব দেন তিনি। কমিটিটি বিটিআরসি প্রণীত এবং মন্ত্রণালয়ে খসড়া নিয়ে আলোচনার পর চূড়ান্ত করা আইনটি যেনো বেসকারি খাতের উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা এবং নাগরিক সেবাদানের পথে ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনে কমিটিটি কাজ করবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আইনের ধারা ৭ এর ৩ উপধারা এবং ২৬ এর ঙ বিষয়ে তোলা আপত্তি বিষয়ে আমিও একমত। বিটিআরসি’র ওয়ানস্টপ সেবা দিতে তাদের স্বাধীনতা দেয়ার পাশাপাশি তাদের মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে যেনো কোনো জটিলতা তৈরি না হয় সেটাও আমাদে দেখতে হবে। তবে ২০০১ ও ২০১০ সালের সংশোধন নিয়ে প্রয়োজন না হলে নতুন কোনো কিছু পরিবর্তন করতে চাই না।
পলক আরো বলেন, আমাদের নতুন টেলিযোগাযোগ আইন কীভাবে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে তা নিয়েই আজকের বৈঠক। এখানে আইন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বিটিআরসি ও টেলিকম ডিভিশনের যে সীমিত মানবসম্পদ রয়েছে তা দিয়ে আমাদের ১৩ কোটি ইন্টারনেট, ১৯ কোটি সিমকার্ড ও ১২ কোটি এমএফএস ব্যবহারকারী, দেশজুড়ে বিস্তৃত ৫০ হাজার টাওয়ার দেখাশোনা করা ও গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত করা কষ্টসাধ্য; সে জন্য প্রয়োজন রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক ও পলিসি প্রণয়ন।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার সবসময় প্রাইভেট সেক্টরকে সরকারের সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা এবং বিগত ১৫ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্পের সফল বাস্তবায়নসহ বাংলাদেশের বৈপ্লবিক উন্নয়নে প্রাইভেট সেক্টরের ভূমিকা অনবদ্য। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বাংলাদেশ বিনির্মাণেও আমরা সরকার, একাডেমিয়া ও প্রাইভেট সেক্টর মিলে একসাথে কাজ করবো। তাই, আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের প্রস্তাবিত সংশোধন ও সংযোজনগুলো আমরা পুনঃবিবেচনা করবো। বর্তমানে আমরা পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি, আইওটি, এআর ও ভিআর এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। প্রযুক্তির এই বিপ্লবকে মোকাবেলা করতে, আমাদের সক্ষমতা তৈরি করতে, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও উদ্যোক্তাদের কাজের ক্ষেত্র বিদ্যমান রাখতে আমাদের একটা সময়োপযোগী ও ভবিষ্যতমুখী টেলিকম অ্যাক্ট প্রণয়ন করতে হবে। যা মানসম্মত গ্রাহক সেবা, নাগরিক কেন্দ্রিক টেলিকম সেক্টর ও নতুন ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ভবিষ্যতমুখী প্রযুক্তিগুলো কীভাবে একটি রেগুলেটরি কমিশন হ্যান্ডেল করবে, মোবাইল অপারেটররা পজেটিভ ইউজ কেইস তৈরি করবে, কীভাবে বিজনেস গ্রোথ হবে, সেই বিষয়গুলো যদি আইন, বিধি বা নীতিমালার মধ্যে পরিস্কার ভাবে তুলে ধরা না হয় তাহলে বিদেশী বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে না একইভাবে দেশীয় উদ্যোক্তারাও সাহস বা ঝুঁকি নেবে না’ - যোগ করেন পলক।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ, এমটবের সভাপতি ইয়াসির আজমান, বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হক এবং মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরুল মাবুদ চৌধুরী (অতিরিক্ত দায়িত্ব), বাংলালিংক ডিজিটালের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার হ্যান্স মার্টিন হেনরিকসন, এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার (অব.), মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া শহীদ, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমদাদুল হক, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাইমুম রেজা তালুকদার প্রমুখ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।







